৩রা মার্চ, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
        
 
অপরাধসারাদেশ

রিফাত হত্যায় মামলায় স্ত্রী মিন্নিসহ ৬ আসামির মৃত্যুদণ্ড ৪জনকে খালাস

রিফাত হত্যায় মামলায় স্ত্রী মিন্নিসহ ৬ আসামির মৃত্যুদণ্ড ৪জনকে খালাস

বরগুনা :

বহুল আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যা মামলার রায় ঘোষনা করেছেন আদালত। রায়ে নিহত রিফাত শরীফের স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নিসহ ৬ জনকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড এবং ৪ জনকে খালাস দিয়েছেন আদালত।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১:৪৫ মিনিটে বরগুনার জেলা ও দায়রা জজ মো. আসাদুজ্জামান প্রাপ্তবয়স্ক ১০ আসামীর বিরুদ্ধে এ রায় ঘোষনা করেন। মাত্র এক বছর তিন মাসের মধ্যে চাঞ্চল্যকর এ মামলার রায় ঘোষনা করা হলো।

সকাল ৯টায় বাবা মোজা‌ম্মেল হক কি‌শোরের সঙ্গে মিন্নি আদালত প্রাঙ্গণে আসেন। দুপুর পৌনে ১২টার দিকে প্রিজন ভ্যানে করে রাকিবুল হাসান রিফাত ফরাজি, আল কাইউম ওরফে রাব্বি আকন, মোহাইমিনুল ইসলাম সিফাত, রেজওয়ান আলী খান হৃদয়, মো. হাসান, রাফিউল ইসলাম রাব্বি, মো. সাগর এবং কামরুল ইসলাম সাইমুনকে আদালতে নিয়ে আসা হয়। চার্জশিটভুক্ত আসামি মো. মুসা মামলার শুরু থেকেই পলাতক। অপ্রাপ্ত বয়স্ক ১৪ আসামির বিচার বরগুনার শিশু আদালতে চলমান রয়েছে।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) ভুবন চন্দ্র হাওলাদার জানান, প্রাপ্তবয়স্ক ১০ আসামির মধ্যে রাকিবুল হাসান রিফাত ওরফে রিফাত ফরাজী, আল কাইয়ুম ওরফে রাব্বি আকন, মোহাইমিনুল ইসলাম সিফাত, মো. রেজওয়ান আলী খান হৃদয় ওরফে টিকটক হৃদয়, মো. হাসান ও নিহত রিফাত শরীফের স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নিকে ফাঁসি এবং মো. মুসা, রাফিউল ইসলাম রাব্বি, মো. সাগর ও কামরুল হাসান সাইমুনকে খালাস দেয়া হয়েছে। একই সাথে ফাঁসির আদেশ প্রাপ্ত ৬ আসামিকে ৫০ হাজার টাকা করে আর্থিক জরিমানা করা হয়েছে।

নিহত রিফাত শরীফের বাবা আ. হালিম দুলাল শরীফ বলেন, আদালতের উপরে আমাদের আস্থা ছিলো। রায়ে আমরা সন্তুষ্ট।

মিন্নির বাবা মোজ্জামেল হোসেন কিশোর বলেন, এটা একটা পুতুল খেলার মতো হয়েছে। এটাকে আমরা কোন রায় বলে মনে করিনা। আমরা অত্যন্ত আশাবাদী উচ্চ আদালত থেকে মিন্নি খালাস পাবে ইনশাআল্লাহ।

মিন্নির আইনজীবী মাহবুবুল বারী আসলাম বলেন, আমরা মিন্নির পক্ষে উচ্চ আদালতে যাবো। সেখানে আশাবাদী মিন্নি খালাস পাবে।

এ মামলার অপ্রাপ্তবয়স্ক আট আসামি উচ্চ আদালত ও বরগুনার শিশু আদালতের আদেশে জামিনে রয়েছে। অপ্রাপ্তবয়স্ক আসামীদের বিরুদ্ধে আগামী দু-এক মাসের মধ্যে রায় ঘোষনা করা হবে।

মামলার অন্যতম প্রধান আসামী সাব্বির আহমেদ নয়ন ওরফে নয়ন বন্ড পুলিশের অভিযানের সময় ২০১৯ সালের ২জুলাই ভোররাত সোয়া চারটার দিকে বরগুনা সদরের বুড়িরচর ইউনিয়নের পূর্ব বুড়িরচর গ্রামে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হন। এ কারণে তাঁকে মামলা থেকে অব্যাহতিদান করা হয়েছে। মামলার প্রাপ্তবয়স্ক আসামী মো. মুসা ওরফে মুসা বন্ড হত্যাকাণ্ডের ঘটনার পর থেকেই পলাতক রয়েছে।

উল্লেখ্য, গত বছরের ২৬ জুন বরগুনা সরকারি কলেজ গেটের সামনে প্রকাশ্যে শাহনেওয়াজ রিফাতকে (রিফাত শরীফ) কুপিয়ে হত্যা করে সন্ত্রাসী নয়ন বন্ড ও তার বাহিনী। ওই রাতেই গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয় রিফাত হত্যার ভিডিও। পরেরদিন ২৭ জুন রিফাতের বাবা মো. আবদুল হালিম দুলাল শরীফ বাদী হয়ে ১২ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও পাঁচ-ছয় জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
error: Alert: Content is protected !!